Tuesday, December 19, 2017

সুযোগ নিজেকেই সৃষ্টি করতে হবে - বিজ স্টোন

সুযোগ নিজেকেই সৃষ্টি করতে হবে-বিজ স্টোন 



টুইটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিজ স্টোন। তাঁর জন্ম ১৯৭৪ সালের ১০ মার্চ, যুক্তরাষ্ট্রে। ১৪ মে, ২০১১ সালে ব্যবসন কলেজের সমাবর্তনে তিনি এ বক্তব্য দেন। সূত্র: ওয়েবসাইট। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মারুফা ইসহাক
আজকে এখানে আসতে পেরে আমি খুব সম্মানিত বোধ করছি। গ্র্যাজুয়েটদের অনেক অভিনন্দন। তোমরা নিঃসন্দেহে বিশেষ কিছু অর্জন করেছ এবং তোমাদের যাত্রা মোটে শুরু হলো।
যখন আমি ছোট্ট শিশু, তখন আমার মাকে বলেছিলাম, আমি বড় হয়ে ব্যবসনে একজন ব্যবসায়ী হতে যাব। কিছুটা অবিশ্বাস্যভাবেই আমি এখন এখানে দাঁড়িয়ে আছি তোমাদের সঙ্গে। এখানে আসার জন্য আমি আমার একান্ত নিজস্ব পথ বেছে নিয়েছিলাম। আজকে আমি তোমাদের সঙ্গে সুযোগ, সৃজনশীলতা, ব্যর্থতা ও সহানুভূতি সম্পর্কে চারটা গল্প বলব। এ গল্পগুলোর অন্তর্গত বোধ আমার ব্যবসা, আনন্দ এবং সাফল্যের দৃষ্টিভঙ্গিকে রঙিন করে তুলেছে।
সুযোগ: প্রথম গল্পের বিষয় আমার বয়স যখন ছয় থেকে দশ, তখন মা আমাকে বয় রেঞ্জার নামে একটা কর্মসূচিতে দিল। এটা বয়স্কাউটের পূর্ববর্তী পর্যায়। স্থানীয় মার্কিন আদিবাসীরা আমাদের আদর্শ ছিল। সেখানে আমরা এক ধরনের পুঁতি ও পালক দিয়ে মাথার মুকুট তৈরি করতাম। দড়িতে গিঁট দেওয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক কৌশলও আমরা শিখেছিলাম। এসব করে আমার সময়ই হতো না সমবয়সীদের সঙ্গে বেসবল, ফুটবল, বাস্কেটবল ইত্যাদি খেলায় অংশ নেওয়ার। হাইস্কুলে উঠে আমি আমাদের ক্রীড়া দলে যোগ দিতে চাইলাম। কিন্তু বাস্কেটবল কোর্টের সব লাইন দেখে অবিশ্বাস্য রকমের আতঙ্কিত হতাম। খেলার নিয়মকানুনও বেশ কঠিন লাগত, যদিও সবার কাছে সেসব ছিল খুবই সহজ। আমার এই আতঙ্কের কারণে আমি কোনো দলেই সুযোগ পেলাম না। সে সময় আমি নিজেই এক ধরনের গবেষণা শুরু করলাম। দেখলাম, ‘ল্যাক্রোস’ নামের খেলাটা আমাদের স্কুলে খেলা হয় না। যদি কেউই খেলতে না জানে, তবে আমার মতো সবারই অসহায় অবস্থা হবে। তাই স্কুল প্রশাসনের কাছে গিয়ে বললাম, যদি কোচ ও শিক্ষার্থী জোগাড় করতে পারি, তবে কি আমি ল্যাক্রোস টিম শুরু করতে পারি? তারা রাজি হলো। ল্যাক্রোস টিম যাত্রা শুরু করল। যখন আমার আতঙ্ক কেটে গেল, তখন দেখা গেল এই খেলায় আমি খুবই ভালো করছি এবং একসময় আমি দলের অধিনায়ক হয়ে গেছি।
এ অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে কী করে সুযোগ তৈরি করে নেওয়া যায়। কোনো কাজ করার জন্য যে সঠিক পরিস্থিতির দরকার, তার জন্য অপেক্ষা না করে তুমি নিজেই সেই পরিস্থিতি তৈরি করে নিতে পারো।
সৃজনশীলতার গল্প
হাইস্কুল শেষে কলেজে আমি শিল্পকলা বিষয়ে পড়তে লাগলাম। পাশাপাশি বেকন হিলের এক প্রকাশনা সংস্থায় একটা চাকরিও পেয়ে গেলাম। একদিন যখন পুরো আর্ট ডিপার্টমেন্ট দুপুরের খাবার খেতে বাইরে গেছে, তখন কম্পিউটারে আমি একটা বইয়ের প্রচ্ছদ ডিজাইন করে ফেললাম। অন্য প্রচ্ছদগুলোর সঙ্গে সেটাও অনুমোদন করার জন্য রেখে দিলাম। শিল্প পরিচালক নিউইয়র্ক থেকে ফিরলেন। প্রচ্ছদগুলো দেখার সময় আমারটা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কে করেছে? আমি জানালাম যে এটা আমার করা। তিনি ভীষণ অবাক হলেন। শুধু যে আমার প্রচ্ছদটাই নির্বাচিত হলো তা না, আমাকে বইয়ের প্রচ্ছদ পরিকল্পনার চাকরির প্রস্তাব করা হলো। একজন বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারার দারুণ সুযোগ পেয়ে গেলাম। তাই আমি একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিলাম—কলেজ ছেড়ে কাজ শেখার এই দুর্লভ সুযোগকে কাজে লাগালাম। এভাবেই আমার গ্রাফিক ডিজাইন শেখা শুরু। এ শেখাটাই আমাকে নতুন ধরনের চিন্তার জগতে নিয়ে এল।
কখনো ভেবো না, তোমার মধ্যে সৃষ্টিশীলতা নেই। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই এ সম্পদটা আছে।
আমার তৃতীয় গল্পের বিষয় ব্যর্থতা
১৯৮৭ সালে একটা জার্মান রোমান্টিক ফ্যান্টাসি সিনেমা দেখেছিলাম। নির্দেশক ছিলেন উইম ওয়েনডার্স। এই সিনেমার আমেরিকান ভার্সনটা হলো উইংস অব ডিজায়ার। কাহিনির সময়টা ১৯৮০-র দশক, যখন পশ্চিম বার্লিনে গৃহযুদ্ধ প্রায় শেষ। দুজন দেবদূতকে (ক্যাসেল ও ড্যামিয়েল) রাখা হয়েছে বার্লিন শহরের দিকে খেয়াল রাখার জন্য। মানুষজন ও শহর গড়ে ওঠার আগে থেকেই তারা সেখানে ছিল। তাদের মৃত্যু নেই। সেখানকার জনগণের চিন্তাভাবনা বোঝা, কথা শোনা এসবই ছিল তাদের কাজ। কিন্তু তারা বাস্তবজগতে ছিল অদৃশ্য, কেউ তাদের দেখতে পেত না বা তাদের কথাও শুনতে পেত না।
সবকিছুই তো আর পরিকল্পনামতো চলে না। একসময় ড্যামিয়েল এক প্রতিভাসম্পন্ন, সুদর্শনা সার্কাস আর্টিস্ট ম্যারিওনকে ভালোবেসে ফেলে। তার চিন্তায় বারবার আনাগোনা করতে থাকে মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার অনুভূতি কেমন হতে পারে। একদিন অবিশ্বাস্য একটা কাজ করে ফেলে সে। তার অসীম অমর জীবন ত্যাগ করে একা পৃথিবীতে চলে আসে। বহু ত্যাগ স্বীকারের পর ম্যারিওনকে পায়।
আমার তৃতীয় উপদেশ অনেকটা ড্যামিয়েলের সিদ্ধান্তের মতো। কোনো আকর্ষণীয় সাফল্য অর্জনের জন্য তোমাকে অবশ্যই তৈরি থাকতে হবে আকর্ষণীয় কোনো ব্যর্থতার জন্য। লক্ষ্য অর্জনে মৃত্যুর জন্য হাসিমুখে প্রস্তুত থাকতে হবে। আমি বলছি না তোমাদের সত্যিই মরতে হবে। আমার কথার মানে হলো, ব্যর্থতাকে সহজভাবে মেনে নিতে হবে।
সহানুভূতি: আমার চতুর্থ গল্প
মানুষকে বুঝতে পারা ও তার অনুভূতিগুলো ভাগ করে নেওয়াই হলো সহানুভূতি। আমাদের প্রায় সবার মধ্যেই এই গুণটা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ কীভাবে হতে পারে তা আমরা অনেকেই জানি না। ১০ বছর ধরে আমি বড় পরিসরে সামাজিক যোগাযোগ প্রসারের পরিকল্পনা করছি। যেমনটা হচ্ছে এখনকার সময়ে টুইটার।
নিজে বিত্তশালী হওয়ার পরে অন্যকে সাহায্য করতে হবে—এমনটা ভাবা ঠিক নয়। ডোনার চুজ সংস্থার মাধ্যমে আমি ও আমার স্ত্রী বেশ অনেক বছর ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাহায্য করে আসছি। এর মূল্য যদিও অনেক কম, তবে প্রতিদান অনেক বেশি। আমরা ছোট্ট শিশুদের হাতে লেখা ধন্যবাদসূচক প্রচুর চিঠি পাই। এগুলো সত্যিই অনেক মূল্যবান। পৃথিবীতে সবাই আমরা একসঙ্গে থাকি, একজন অন্যজনের ওপর নির্ভর করি। যখন আমরা একে অপরকে সাহায্য করি, পরোক্ষভাবে নিজেদেরই সাহায্য করা হয়। তাই আমার সর্বশেষ উপদেশ হলো, তুমি যত তাড়াতাড়ি অন্যদের প্রতি তোমার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া শুরু করবে, তুমি তোমার জীবনে তত বেশি এর প্রতিদান পাবে।
সবশেষে আমি তোমাদের প্রত্যেককে বলছি, তোমরা নিজেরা নিজেদের সুযোগ তৈরি করো, তোমাদের ভেতরকার অসীম সৃজনশীলতাকে জাগিয়ে তোলো, ব্যর্থতাকে সহজভাবে গ্রহণ করো এবং সহানুভূতিশীল হও। নিজেকে জ্ঞান ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণে গড়ে তোলো। এতে তুমি শুধু পৃথিবীকেই বদলাবে না, তুমি নিজেও আনন্দ পাবে এবং থাকবে প্রশান্তিতে। আমি তোমাদের জন্য গর্বিত। ধন্যবাদ

Sunday, July 23, 2017

HSC RESULT |এইচ এস সি রেজাল্ট। হতাশ হয়ো না। সামনে তাকাও। অনুপ্রেরণা

ফল যা–ই হোক সামনে তাকাও

পথ আছে অনেক।
দৃষ্টি যদি সামনে থাকে,
এগিয়ে যাওয়ার পথ তুমি পাবে

উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী দুই বাংলাদেশি যুবকের কথোপকথন।

- ভাই, আপনি কি সেই লোক, ম্যাট্রিকে (এখনকার এসএসসি) ফার্স্ট হয়েছিলেন?

- জি (নম্র ভঙ্গিতে)।

- আরে ভাই, আপনি তো আমার চিরশত্রু! জীবনে আপনার জন্য কম অপমান সহ্য করি নাই।

- মানে? আমার জন্য আপনি অপমানিত হয়েছেন? আপনার সঙ্গে আমার কি পরিচয় হয়েছিল আগে কোথাও?

- ভাই, আপনি ম্যাট্রিকে সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম হইলেন। বাবা–মাকে দুই পাশে নিয়ে ছবি তুললেন। পত্রিকার প্রথম পাতায় সেই ছবি দেখে আমার মা বলতেন, ‘যা, ওর পা ধুইয়া পানি খাইয়া আয়’। সেই থেকে আপনি আমার শত্রু!

- (হাসতে হাসতে) তাতে কী? আমি তো আপনার মতো এত ভালো গান গাইতে পারি না!

এ ঘটনা সত্য। উত্তর আমেরিকায় বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) ক্রেসগি অডিটরিয়ামে বছর কয়েক আগে বাংলা গানের যে চমৎকার আয়োজন হয়েছিল, সেখানে আমার উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বাংলা গানের এই আয়োজনে অংশ নেন অসংখ্য প্রবাসী বাঙালি তরুণ–তরুণী। তাঁদের গান যখন মিলনায়তন ছাপিয়ে বোস্টন গ্লোব–এর মতো পত্রিকার পাতায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছিল, তখন গায়ে কাঁটা না দিয়ে পারে? আর যে বাঙালি যুবকের নেতৃত্বে এই অসামান্য আয়োজন হয়েছিল, সে-ই কিনা ঈর্ষা করে পরীক্ষায় প্রথম হওয়া মানুষটিকে!

একেকজনের ভেতরে থাকে একেক প্রতিভা। কেউ পরীক্ষায় ভালো ফল করে এগিয়ে যাবে, কেউবা ক্রিকেট খেলে। মুস্তাফিজের সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য ঢাকার সেরা স্কুলের সেরা ছাত্র–ছাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে কী ভীষণ লড়াই...নিজের চোখেই তো দেখলাম গতবার কিশোর আলোর আয়োজন কিআনন্দে! কে তখন মনে রাখে মুস্তাফিজের পরীক্ষার নম্বর?

সুতরাং মন দিয়ে পড়াশোনা করব, নিয়মশৃঙ্খলা মানব, পরীক্ষায় ভালো ফল করার চেষ্টা করব, বাবা–মাকে শ্রদ্ধা করব...এ রকম অনেক মানব, করব–র পর পরীক্ষার ফল যা–ই হোক না কেন, দৃষ্টি থাকবে সামনে। আমরা কেউ জানি না, আমাদের কোন আলো কখন জ্বলে উঠবে!

তোমার কি মন খারাপ?

হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি। যে তুমি এ বছর উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পাওনি কিংবা কৃতকার্য হওনি। মন তো খারাপ হবেই। কিন্তু মনকে বলো, ‘দেখিস, একদিন আমরাও...।’ তোমার এই মন খারাপ করার পেছনে দায়ী আমরা বড়রা। আমরা তুলনা করি। তোমার দুর্বলতাকে চিহ্নিত করে সমানুভূতি দিয়ে তা কাটাতে সহযোগিতা করি না। তুমি এই সহযোগিতার হাত না পাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, না পাও পরিবারে। গড্ডলিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে তোমার ভেতরের সবলতাকে খুঁজে বের করে শাণিত করি না। বলি—তুই আমার মানসম্মান ডুবালি। আমার অফিসের জুনিয়র সহকর্মীর কাছে আমার মুখ ছোট করলি। ওর ছেলে পারল, তুই পারলি না?

বটেই, সন্তানের পরীক্ষার ফল এখন বাবা–মায়ের সামাজিক মর্যাদার নিয়ামক হয়ে উঠেছে।

আরেক দল তো নৌকা ভাড়া করে কাটা ঘায়ে নুন ছিটাতে শুরু করে। ‘হ্যালো ভাবি, শুনছেন, অমুক ভাবির তো খু...উ...ব মন খারাপ। মেয়েটা জিপিএ–৫ পায়নি। ভাই নাকি খু...উ...ব রেগে গেছেন। ভাবিকে দোষ দিচ্ছেন। বলেন তো, ভাবির কী দোষ? ভাবি তো কম চেষ্টা করেননি। কতগুলো কোচিংয়ে নিয়ে যেতেন মেয়েকে। কেন যে খারাপ করল? আমার মেয়ে কিন্তু ওর চেয়ে কম পড়েছে। এখন মেয়েটা ভালো কোথাও ভর্তি হতে পারবে কি না? যা হোক, ভাবিকে ফোন করে একটু সান্ত্বনা দিয়েন। আমি দিয়েছি!’

আমাদের সময় এই জিপিএ ৫/৪ ছিল না। সম্মিলিত মেধাতালিকা প্রকাশ করা হতো। পত্রিকার পাতায় গর্বিত বাবা–মায়ের সঙ্গে ছাপা হতো ছবি। আমাদের মতো সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মনে হতো—ইশ্, আজ যদি পত্রিকা না বের হতো! কারণ, ওই দিনের পত্রিকা ছিল আমাদের গলার কাঁটা। আর মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া অচেনা–অজানা ছেলেমেয়েগুলো অকারণেই হয়ে যেত আমাদের চরম শত্রু। তোমাদেরও নিশ্চয়ই গণমাধ্যমে সহপাঠীদের আনন্দ–উল্লাসের ছবি দেখে মন আরও খারাপ হচ্ছে? মনে মনে বলো—এই দিন দিন না, আরও দিন আছে, সেই দিন ধরা দেবে এই দিনের কাছে।

প্রথম আলোর ইউটিউব চ্যানেলে গেলে ঘোড়সওয়ার নামে একটা তথ্যচিত্র দেখা যায়। নওগাঁর তাসমিনা নামের কিশোরী। অন্যের ঘোড়া নিয়ে ঘোড়দৌড়ে প্রথম হয়। নিজের হাতে পুরস্কার তুলে দেয় ঘোড়ার মালিককে। দরিদ্র পিতার কন্যা। কিন্তু তাসমিনা হারতে শেখেনি। ওর কাহিনি ছাপা হয়েছে প্রথম আলোর পত্রিকায়, ওকে নিয়ে তৈরি হয়েছে তথ্যচিত্র (আশা করি, না দেখে থাকলে তুমিও দেখবে: goo.gl/9757eR)। কজনকে নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি হয়? পরীক্ষার নম্বরের জন্য নয়, পাড়া–গাঁয়ের একটি মেয়ের অসম্ভব মনোবলের জন্যই আজ সে নিজের ঘোড়ায় চেপে একের পর এক জয় ছিনিয়ে নিচ্ছে। হয়তো তাসমিনার মতো তুমিও একদিন ছুটবে টগবগ টগবগ করে। অপেক্ষা করো, তোমাকে নিয়েই আবার লেখা হবে কবি শামসুর রাহমানের এই কবিতার মতো নতুন কোনো কবিতা; নতুন হাতে, নতুন দিনে—তুমি আর ভবিষ্যৎ যাচ্ছ হাত ধরে পরস্পর/ সর্বত্র তোমার পদধ্বনি শুনি দুঃখ তাড়ানিয়া/ তুমিতো আমার ভাই, হে নতুন, সন্তান আমার...

ভারতীয় ক্রিকেট দলের এম এস ধোনিকে নিয়ে তৈরি সিনেমাটা (এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি) তোমরা অনেকেই দেখেছ। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। পানির পাম্প অপারেটর বাবার স্বপ্ন ছিল, ছেলে লেখাপড়া শেষে রেলের টিটি হবে। ছেলের ক্রিকেট–নেশা কিন্তু মানতে পারতেন না বাবা। রেলের চাকরি ছেড়ে দেওয়াতে মনঃক্ষুণ্নই হয়েছিলেন। কিন্তু যখন গোটা স্টেডিয়ামে ধোনি ধোনি রব, তখন কিন্তু মাহীর (ধোনির ডাকনাম) বাবা হয়ে গেলেন গর্বিত ধোনির বাবা। চোখ বেয়ে নামল আনন্দের ধারা। বাবা–মা সন্তানের সাফল্যে খুশি না হয়ে পারেন?

আলীবাবা ডটকমের কর্ণধার জ্যাক মা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অঙ্কে পেলেন ১। আর ব্যবসা জীবনে? ১০০ তে ১০০! এই ‘স্বপ্ন নিয়ে’র পাতাতেই পড়েছি সেই কাহিনি। তাই কথা একটাই—যারা এ মুহূর্তে ভালো ফল করেছ, তাদের অভিনন্দন। আর বাকিদের আগাম অভিনন্দন। কারণ, চেষ্টা করলে জীবনের কোনো না কোনো ধাপে তুমি ছয় মারবেই। সুতরাং সামনে তাকাও। দেখতে পাচ্ছ? সামনে একটা ট্রেন আসছে...ঝিকঝিক...ঝিকঝিক...কুউউউউ... ঝিকঝিক...ঝিকঝিক...তোমাকে শুধু সঠিক কামরায় চড়তে হবে।

সূত্রঃ প্রথম আলো